দৃশ্যপট ডেস্ক রিপোর্ট:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের গোতিথা গ্রামের মনিলাল মাহাতোর বাড়ি। মাটির তৈরি বাড়িটিতে যেন উৎসবের আমেজ বইছে। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে সুযোগ পাওয়া অয়ন্ত বালা মাহাতো এই বাড়ির সন্তান। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই ম্যাচের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে বাড়িতে ফিরেছেন অয়ন্ত।
জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের গোতিথা গ্রামের মনিলাল মাহাতো ওরফে বরিষা মাহাতো ও শেফালি রানি মাহাতো দম্পতির মেয়ে অয়ন্ত।
একটি ছোট বাড়ি ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ নেই। অন্যের জমিতে মজুর খেটেই চলে তাদের সংসার।
স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে মাঠে কাজ করে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় হয়, আর তা দিয়েই কোনোমতে দিনপাত চলে। এমন একটি পরিবারেই জন্ম অয়ন্তের। টিনের ছাউনি দেওয়া মাটির দেওয়ালের ঘরে বসবাস করেন তারা।
মনিলাল মাহাতো-শেফালী দম্পতির দুই মেয়ে ও এক মেয়ের মধ্যে অয়ন্ত সবার ছোট। বড়বোন রিনা রানি মাহাতো স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী। একমাত্র ভাই জয় কুমার মাহাতো স্থানীয় নিমগাছী ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাশাপাশি চান্দাইকোনা বাজারে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ২ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দলের হয়ে দুটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলে অয়ন্ত বালা তার বাড়িতে আসেন।
প্রথমেই তার ফুটবলের হাতে খড়ি প্রশিক্ষক নিহার রঞ্জন সরকার ও তার একাডেমিতে দেখা করলে একাডেমীর সদস্যরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
অয়ন্ত বালা মাহাতো বলেন,
আমি এই প্রথম জাতীয় দলের সদস্য হয় বিদেশে খেলতে গেছি। অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে,তারা আমাদের চেয়ে অনেক সিনিয়র, লম্বা ও স্বাস্থ্যবান। সামনে ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো করবো।
বিষম ডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্রী বরিষা রানী মাহাতো বলেন,
অয়ন্ত বালা আমাদের একাডেমীর।আমরা এক সাথে খেলেছি,তার জাতীয় নারী দলে দেখে আমার আরো বেশি বেশি করে পরিশ্রম করছি ,তার মতো আমরাও যেন বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পায়।
অয়ন্ত বালা ভাই জয় কুমার মাহাতো বলেন,
আমার ছোট বোনের দির্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ,সে এক দিন জাতীয় দলে খেলবে । ধীরে ধীরে তার এ স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমার ছোট বোন অয়ন্ত বালা ২০২২ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়। কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে আজকে সে জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্য।
প্রশিক্ষক নিহার রঞ্জন সরকার বলেন,
আমার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রমিলা ফুটবল একাডেমীর ৩০/৩৫ জন কিশোর -কিশোরি খেলোয়াড়াকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকি
ঝড় বৃষ্টি ওপেক্ষা করে প্রতিদিন ভৌর থেকে ২ ঘন্টা করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। গরীব কৃষক পরিবারের সন্তান সবাই।এতের যদি হালকা নাস্তা ব্যবস্থা করা যেতে তাহলে আরো উপস্থিতি বেশি হতো,এখান থেকে অনেক অয়ন্ত বালা তৈরি করা যেত।